চুল পড়ার কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা

চুল আমাদের সৌন্দর্যের মুকুট সরূপ । আমি আমার ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত যে প্রবলেম গুলো নিয়ে কাজ করি তা মধ্যে একটি হচ্ছে চুল পড়ার সমস্যা। অনেকে বলেন – তার পুরো মাথা থেকে চুল পড়ছে, সিঁথি বা পেছন থেকে পড়ছে বা সামনে থেকে চুল পড়ে চুলের লাইন পেছনে চলে যাচ্ছে বা যথেষ্ট পরিমান চুল কমে গিয়েছে সামনে থেকে।

আমাদের মাথায় গড়ে ১ থেকে ১.৫ লাখ চুল থাকে । প্রতিটি চুলের একটি নির্দিষ্ট লাইফ সাইকেল থাকে – তার লাইফ সাইকেল পূর্ণ হলে সেটি ঝড়ে পড়বেই এটাই স্বাভাবিক। প্রতিদিন ১০০ টার মত চুল পড়লে মেডিকেল সাইন্সে আমরা নরমাল ধরে নেই।

চুল কেন পড়ে?

১/ জেনেটিক কারণে চুল পড়তে পারে – বাবা মার চুল পড়ছে , সেই ক্ষেত্রে পরবর্তী জেনারেশনের চুল পড়ার প্রবণতা দেখা যায় অনেক অল্প বয়স থেকেই ।

২/ অনেক সময় শারীরিক বা মানসিক চাপের কারণে  চুল পড়তে পারে। শুনে থাকবেন – অনেক ছাত্র – ছাত্রী বলে আমার পরীক্ষা শেষ হয়েছে পর থেকে আমার চুল পড়ছে। অনেকে বলেন – ডেঙ্গু বা টাইফয়েড হওয়ার পর থেকে চুল পড়ছে – এই সব মানসিক চাপ জনিত কারণে চুল পড়া।

৩। হরমোন জনিত সমস্যার কারণে চুল পড়তে পারে। থাইরয়েড হরমোন যদি বডিতে কমে যায়, মানে হাইপোথাইরয়েডের কারণে অনেক চুল পড়তে পারে।

৪। গর্ভাবস্থায় মায়েদের হরমোন বেড়ে যায় – যার কারণে চুল অনেক সুন্দর হয়ে যায়, কিন্তু প্রসবের পর বাচ্চার বয়স যখন ৪ – ১৮ মাস তখন চুল পড়া খুব বেড়ে যায়। কারণ তখন হরমোনগুলো আগের অবস্থায় ফিরে আসতে থাকে।

৫/ আরও একটি কারণ হচ্ছে – খুশকি – যাদের খুশকি আছে তাদের খুব চুল পড়ে। আরও আছে সেবোরিক ডারমাটাইটিস, সেবোরিক ফলিকুলাইটিস বা সোরিয়াসিস এসব কারণেও প্রচুর পরিমাণে চুল পড়তে পারে।

৬/আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা না বুঝে অনেক অনিয়ম করি- কিছু না জেনেই একটা ডায়েট প্ল্যান বা ক্রাশ ডায়েট করি এতে পুষ্টির অভাবে চুল পড়ার সমস্যার সাথে সাথে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

৭/ অনেক সময় কোন মেডিসিন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেও চুল পড়তে পারে।

চুল পড়া বন্ধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে সবচেয়ে অত্যাধুনিক এবং কার্যকরী  ট্রিটমেন্ট হচ্ছে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা ( পি আর পি )। এই পদ্ধতিতে আমরা রোগীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সেনট্রিফিউজ করে রক্তের প্লাজমার এর প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকাকে আলাদা করে নিয়ে চুলের গোঁড়াতে ইনজেকশন দিয়ে অনুপ্রবেশ করানো হয়। প্লাটিলেটে আছে গ্রোথ ফ্যাক্টর এবং সাইটোকাইন – যা চুলের গোড়ায় সারের মত কাজ করে – যা রক্ত সঞ্চালনকে বাড়ায় , চুল ও চুলের গোঁড়াকে স্বাস্থ্যকর ও মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। পি আর পি এর মাধ্যমে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বা জেনেটিকভাবে চুল পড়াও নির্মূল করা সম্ভব – কিন্তু সে ক্ষেত্রে সেশন একটু বেশি লাগতে পারে।

 

কারো প্রশ্ন থাকতে পারে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কিনা?

পি আর পি সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি – কারণ রোগীর নিজস্ব রক্তের গ্রোথ ফ্যাক্টরকে আলাদা করে নির্দিষ্ট জায়গায় অনুপ্রবেশ করছি – কোন কেমিক্যাল এখানে বাব্যহার করা হচ্ছে না।

চুলের প্রধান কাঠামো  তৈরি হয় প্রোটিন দিয়ে – সুতরাং প্রোটিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমাদের চুলের জন্যে এবং সাথে সাথে কিছু ভিটামিন ও মিনারেল দরকার, তাই খাওয়াটা হতে হবে পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। এর পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শে সাপপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে।

এই যে নতুন চুল গজাবে তা ধরে রাখতে মিনক্সিডিল বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

কোথায় করবেন পি আর পি

তা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে নেয়া ভাল – আমাদের শরীরে প্লাটিলেট সংখ্যায় আড়াই থেকে সাড়ে চার লাখ প্রতি মিলিলিটার রক্তে । যেখানে নিরাপদভাবে সেনট্রিফিউজ  পদ্ধতিতে এই প্লাটিলেট সংখ্যায় যত বেশি বাড়াতে পারে – সেখানেই আপনি পি আর পি করে সবচেয়ে সন্তুষ্টি জনক ফলাফল পাবেন। আমাদের সেন্টারে আমরা প্লাটীলেট সংখ্যা দশ লাখ বা তার অধিক পর্যন্ত বাড়াতে পারি। তার মানে রোগীর বক্তে যা প্লাটিলেট থাকে তার চেয়ে ৫ গুন বাড়াতে পারি।

EW villa Medica এর পি আর পি আলাদা – কারণ সেখানে পি আর পি ট্রিটমেন্টে ৫ গুন পর্যন্ত প্লাটীলেট সংখ্যায় বাড়ানো হয় । যদিও রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজন বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় প্লাটীলেট সংখ্যায় কতটুকু বাড়ানো কার্যকরী। এবং সেখানে কোন কিট বাব্যহার না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব , অত্যাধুনিত ও বিশ্ব মানের পদ্ধতিতে  পি আর পি প্রস্তুত করা হয়।

যদি আপনার মনে হয় আপনার মাথা থেকে অত্যাধিক চুল পড়ছে সেই ক্ষেত্রে আপনার সচেতন হতে হবে, নিজের চুলের যত্ন নিতে হবে এবং আপনার পছন্দের ডার্মাটলজিস্টের সাথে কথা বলে সঠিক ট্রিটমেন্ট পদ্ধতিটি বেছে নিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *