কেমিক্যাল পিল

ডার্মাটলজি ক্লিনিকে সাধারন ও জনপ্রিয় একটি স্কিন কেয়ার ট্রিটমেন্ট হচ্ছে কেমিক্যাল পিল। কেমিক্যাল পিল হল ত্বকের এক্সফোলিয়েটিং সলিউশন। বিশেষ করে মুখ, ঘাড়, হাত বা পায়ে এটি ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পিল করা হয়। যেমন – ব্রণ, ব্রণের দাগ, মেসতা, বলিরেখা, কাল দাগ, রোদে পোড়া দাগ, রুক্ষ ত্বক।

কেমিক্যাল পিল কিভাবে কাজ করে

আমাদের ত্বক প্রতিনিয়ত নতুন কোষ তৈরি করে এবং পুরাতন কোষ ঝরে পড়ে। কিন্তু এই ঘটনা ঘটে সেলুলার লেভেলে। তাই আমরা বুঝতে পারি না। এই পুরাতন কোষ, কেরাটিন, মুখের সিবাম একসাথে নতুন কোষের স্তরের উপর আঠার মতোন লেগে থাকে এবং পোর ব্লক করে তৈরি করে ব্লাকহেডস, হোয়াইটহেডস, একনে। এই চিকিৎসার সাহায্যে ত্বকের ত্বকের উপর কেমিক্যাল সলিউশন প্রয়োগ করার মাধ্যমে মৃত কোষ পরিষ্কার হয় এবং নতুন মসৃণ ও পরিস্কার ত্বক প্রকাশ পায়। । এছাড়া ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্যও উপকারী। রাসায়নিক এই পিল ত্বক সুস্থ্য ও উন্নত করতে সাহায্য করে।

 

কার্যকারীতা

কোন পিলটি আপনার লাগবে সেটি নির্ভর করে আপনার ত্বকের সমস্যার উপর। যেমন- ব্রণের জন্য স্যালিসিলিক এসিড পিল, ত্বকের কালো দাগ/ মেসতা বা উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য গ্লাইকোলিক এসিড পিল ব্যবহার করা হয়। কেমিক্যাল পিলে কোন ক্ষতিকারক উপাদান নেই, এটি ফেসিয়াল এক্সট্রাক্ট এবং রিজেনারেট এক্সট্র্যাক্ট করে।

কেমিক্যাল পিলের উপাদানের শক্তির উপর এর কার্যকারিতা নির্ভর করে। আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গার চামড়া বিভিন্ন রকম হয়। কথাও বেশি মোটা আবার কথাও পাতলা। কোন জায়গা হয়তো বেশি স্পর্শকাতর । এই সব দিক খেয়াল রেখে পাতলা চামড়ার জায়গায় আমরা কম শক্তিশালী উপাদান সমৃদ্ধ পিল ব্যবহার করতে হয়।

কত সময় ধরে লাগিয়ে রাখতে হবে তার উপরও কার্যকারিতা নির্ভর করে। তাই অবশ্যই আপনার ডার্মাটলজিস্ট, বিশেষ করে একজন এস্থেটিক ডার্মাটলজিস্ট এর সাথে কথা বলে পিল করতে হবে।

 

ত্বকের সমস্যায় কেমিক্যাল পিল চিকিৎসা

  • ব্রণের সমস্যা- স্যালিসিলিক এসিড পিল ৩০% বা ৩৫%
  • মেসতার সমস্যা- গ্লাইকোলিক এসিড পিল ৩০% বা ৩৫%
  • ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য- আরগি বা গ্লাইকোলিক এসিড পিল
  • ব্রণ গর্ত – টি.সি.এ পিল
  • রোদে পোড়া দাগ – আরগি বা গ্লাইকোলিক এসিড পিল
  • বাহু, কনুই, হাঁটুর কালো দাগ- কম্বিনেশন পিল

ফলাফল

১৬- ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৬০ – ৭০ বছর বয়সের যে কেউই পিলিং করতে পারেন। ২ – ৩ সপ্তাহ পর পর একটা সেশন করে কমপক্ষে ৬ – ৮ সেশন করলে একটা উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া যায়।

 

চিকিৎসার আগের পদক্ষেপ

পিলিং করার পূর্বে ডক্টরকে দেখে নিতে হয় ত্বকের অবস্থা কেমন। দুর্বল ত্বকে কোন পিল করা যাবে না, করলে ত্বকের ক্ষতি হবে। পিলিং করার আগে ত্বককে প্রস্তুত করে নিতে হয় কিছু মেডিসিন এর মাধ্যমে। মনে রাখতে হবে আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ত্বকের মৃত স্তরটাকে তুলে ফেলে নতুন সুস্থ্য ও উজ্জ্বল ত্বক নিয়ে আসা।

 


সতর্কতাঃ

  • পিলিং এর পর কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে রোগীকে-
  • পিলিং এর পর অবশ্যই সানস্ক্রিন দিতে হবে বাহিরে যাওয়ার পূর্বে এবং রান্নাঘরে আগুনের তাপে যাওয়ার আগে।
  • কোন হারস ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা যাবে না কিছু সময়ের জন্য
  • মেক আপ এর ব্যাপারটা ডক্টর এর থেকে শুনে নিতে হবে। কারণ ডিপ পিলিং এ মেক আপ সাথে সাথে ব্যবহার করা যায় না।

 

ডার্মাটলজি ক্লিনিকে এ করবো কেন?

মনে রাখতে হবে কেমিক্যাল পিল এমন কোন পদ্ধতি না যে আপনি বাসায় বসে youtube দেখে কিনবা কোন সেলুন বা পার্লারে যেয়ে করবেন। এতে এমন কোন ক্ষতি হতে পারে যা অপূরণীয়। আমরা এমন অনেক পেশেন্টিই পাই যারা পিল করতে যেয়ে ত্বক পুড়িয়ে আসেন।

আপনি বাসায়   স্কিন কেয়ারে যেটা ইউজ করেন, সেটা প্রতিদিনের ব্যবহারের উপযোগী সহনীয় মাত্রায় তৈরি। প্রফেশনাল ডক্টর যে পিল করেন সেই পিল আপনার ১ মাস ও তার অধিক সময়ের ডেড সেল পিল করে!!

পিলিং অনেক ধরনের এসিড দিয়ে করা হয়, কিছু আছে এপিডার্মিস এ কাজ করে, কিছু ডার্মিসে। কোন এসিড কোন লেভেলে কাজ করবে এটাতো সাধারণ মানুষ বুঝবে না।

কোন সমস্যায় কোনটা ব্যবহার করা হবে, এটা শুধু ডাক্তারই বুঝবেন। একজন অভিজ্ঞ এস্থেটিশিয়ান জানেন পিলের কোন উপাদানটি কত সময় ধরে কিভাবে লাগালে কার্যকারীতা পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *